Posts

কাঁচের চুড়ি..

Image
  রান্নাঘরে কাজ করছিল রত্না যখন রতনলাল ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে এলো। এসেই জোরে হাতটা মুচড়ে ধরলো তারপর হিসহিসে স্বরে প্রশ্ন করলো “কি বলেছিস বৌদিকে? কাজ পারবি না? এতো সাহস হয় কি করে তোর। মুখে মুখে চোপা? এই মুখ ভেঙে রেখে দেবো হতচ্ছাড়ি”   এতো জোরে রতনলাল চেপে ধরেছিল ওর ডান হাতটা যে কয়েকটা চুড়ি ভেঙ্গে হাতটা কেটে গেল কিন্তু রত্না মুখ টুঁ শব্দটি করলো না। জানে বললে কপালে আরও মার আছে। আট মাস হল বিয়ে হয়েছে আর তারপর থেকেই এই ব্যবহার। আট মাস আগে এক রাতে ওর নেশাখোর বাবা বাড়ি ফিরেই মাকে বলেছিল “মেয়ের বিয়ে ঠিক করে এলাম” তার আগে কোনদিন বিয়ের কথা ওঠেনি তাই মায়ের মনে বোধহয় সন্দেহের প্রশ্নচিহ্ন ফুটে উঠেছিল তাই প্রশ্ন করলো “কার সাথে?” “আমার পরিচিত, রোজগারপাতি আছে বাড়ি আছে মেয়েকে সুখেই রাখবে। নামেও দারুণ মিল রতন আর রত্না। ব্যস আর তোমার কি ভাবার আছে? তাছাড়া আরও তো দুই মেয়ে আছে পার করতে” মায়ের আর কোন কথাই দাঁড়াতে জায়গা পায়নি। রত্না কিছু বলার অবকাশও পেলো না। লোকে বিয়েতে আত্মীয়স্বজনকে খবর দেয় হৈচৈ হয় কিন্তু ওর বেলায় সে সব কিছুই হল না। তাড়াহুড়ো করে কালীবাড়িতে বিয়ে দিয়ে পাড়ার লোকদের খাওয়ানো হল।...

এক কাপ কফি.

Image
শিয়ালদা স্টেশনে ট্রেনটা থামতেই, মরুভূমির পঙ্গপালের মত লোক গুলো ট্রেন থেকে বেরিয়ে ব্যস্ততার সঙ্গে এই দিকে ও দিকে মিলিয়ে গেলো, আবার বাকি কেউ কেউ পাশের বঁনগা লোকালে চেপে জানলা দিয়ে বাইরে ভিড় দেখতে লাগল।   কেউ যদি তাদের মধ্যে একটু ভালো করে ভিড়টার দিকে লক্ষ্য করত, তাহলে হয়তো দেখতে পেত সাদা রঙের টি-শার্ট পরা একটা মোটা ছেলে পিঠে একটা ব্যাগ এবং হাতে একটা ট্রলি নিয়ে কলকাতার ব্যস্তার ভিড়ের ঠ্যালা খেতে খেতে মেন গেটার   কোণটাতে আশ্রায় পেয়েছে। তার ট্রলির ঠিক পেছনে নেম প্লেটে বড় বড় করে লেখা তার নাম অনিন্দ্য মিত্র আর ফোন নম্বর ৯০০**** ।    কোন মতে পকেট থেকে মোবাইল বের করে একটি ক্যাব বুক করল অনিন্দ্য।    Pick up - শিয়ালদা স্টেশন Destination- যাদবপুর হয়ত অনেকে বলতে পারে শিয়ালদার সাউথ এর লোকাল ট্রেন গুলো সব যাদবপুরিত যায়। কিন্তু এই সন্ধ্যা বেলার শিয়ালদা থেকে যাওয়ার যেকোনো লোকাল ট্রেনে এত ভীড় হয় যে, আপনি যদি ভূল করে শ্বাস যন্ত্র থেকে শ্বাস বায়ু অতিরিক্ত ত্যাগ করে নিজের পেটকে সংকূচিত করেন তার পর মূহূর্তে আপনি জানতে পারবেন আপন...

নিঃসঙ্গতা...

Image
  পার্কের বেঞ্চে বসে অমর বাবু ভাবছে,"ধূর এই নিঃসঙ্গ জীবন থাকার থেকে চলে গেলেই তো ভালো। কি লাভ বেঁচে থেকে। শুধু শুধু নিজের কষ্ট, আর তার সঙ্গে অন্যকে কষ্ট দেওয়া নানা শারীরিক সমস্যায় জর্জরিত হয়ে। আর যাকে অবলম্বন করে বেঁচে থাকার ইচ্ছা ছিলো, সেই যখন রইলো না, তখন আর কি হবে বেঁচে থেকে।"  "কি ভাবছো অমর দা এতো?" পাশে এসে বসলেন কমলবাবু। এই বছর দুয়েক হলো রিটায়ার করেছেন। আর তাই রোজ সকাল বিকেল পার্কে একটা চক্কর দিয়ে যান। সেই সূত্র ধরেই আলাপ হয়েছে অমর বাবুর সঙ্গে। "কিছু না কমল। তোমার বৌদি আমাকে একেবারে নিঃসঙ্গ করে দিয়ে চলে গেছে। আর কোনো দিন ফিরে আসবে না। সেটাই ভাবছি কি দরকার এমন বেঁচে থেকে। আমিও তো চলে গেলেই হতো তোমার বৌদির সঙ্গে । এভাবে একা তো থাকতে হতো না তাহলে।।এই নিঃসঙ্গতা আমার কাছে অভিশাপ মনে হচ্ছে।" আসলে অনেক নিঃসঙ্গ বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের সকাল বিকালের আস্তানা এই পার্ক। কতো রকমের গল্প যে হয় এখানে। খাওয়া দাওয়া, সিনেমা, থিয়েটার, এমনকি নিজেদের ঘরের সুখ দুঃখ সব। বলা ভালো এই বয়সে একদল সম মনোভাবাপন্ন মানুষ নিজেদের একটা আলাদা জগত তৈরী করে নিয়েছে এই পার্কে র মধ্যে।...

মেঘ বৃষ্টি আলো

Image
  (এক) পর পর দুবার কলিং বেলের শব্দ পেয়ে সাধনাদেবী কিচেন থেকে ডাক দিলেন, মৌ...ও..মৌ দ্যাখ তো মা গিয়ে এই অসময়ে আবার কে এল? মৌমিতা এই সময় মায়ের ডাকটা শুনে একটু বিরক্তই হল।তার ওঠে যাওয়ার একদম ইচ্ছে নেই। সবে গল্পের ক্লাইমেক্সে ঢুকেছে।নায়ক,নায়িকার মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব চরম পর্যায়ে এসে ঠেকেছে। এইবার একটু মানসিক বিশ্রামের দরকার।তারপর অনেক ভেবে চিন্তে তাদেরকে আবার ফেলে আসা জীবনের প্রত্যুষে নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাতে হবে। এইখানে এসে একজন লেখক বা লেখিকার দায়িত্ব কয়েকগুণ বেড়ে যায়।পাঠক,পাঠিকার মনে হাজার প্রশ্নের উদয় এই জায়গা থেকেই শুরু হয়। তাই এখান থেকে বড্ড চিন্তা করে গল্পের উত্তরণ ঘটাতে হয়।এই সময়টাই স্রষ্টা নাওয়া,খাওয়া,শোওয়া পর্যন্ত ভুলে যান।তিনি যেন সত্যিকার নায়ক,নায়িকার অভিভাবক হয়ে ওঠেন। তাই তাদের ঘরমুখো না করা পর্যন্ত মনে একদম শান্তি থাকে না। এই সময় যদি চেয়ার ছেড়ে উঠতে হয় সত্যি সত্যিই রাগ আসে। মৌমিতা তাই একরকম বিরক্ত হয়েই ওঠে গেল।বুকের ওড়নাটা ঠিক করে নিয়ে,মাথার অবিন্যস্ত চুলগুলো ঘুরিয়ে বেঁধে নিয়ে দরজাটা খুলল। একজন মাঝ বয়সী লোক দাঁড়িয়ে আছেন সামনে।একটু গোল টাইপের ,উচ্চতা খুব বেশি না। দাড়...