কাঁচের চুড়ি..
রান্নাঘরে কাজ করছিল রত্না যখন রতনলাল ঝড়ের বেগে ঘরে ঢুকে এলো। এসেই জোরে হাতটা মুচড়ে ধরলো তারপর হিসহিসে স্বরে প্রশ্ন করলো “কি বলেছিস বৌদিকে? কাজ পারবি না? এতো সাহস হয় কি করে তোর। মুখে মুখে চোপা? এই মুখ ভেঙে রেখে দেবো হতচ্ছাড়ি” এতো জোরে রতনলাল চেপে ধরেছিল ওর ডান হাতটা যে কয়েকটা চুড়ি ভেঙ্গে হাতটা কেটে গেল কিন্তু রত্না মুখ টুঁ শব্দটি করলো না। জানে বললে কপালে আরও মার আছে। আট মাস হল বিয়ে হয়েছে আর তারপর থেকেই এই ব্যবহার। আট মাস আগে এক রাতে ওর নেশাখোর বাবা বাড়ি ফিরেই মাকে বলেছিল “মেয়ের বিয়ে ঠিক করে এলাম” তার আগে কোনদিন বিয়ের কথা ওঠেনি তাই মায়ের মনে বোধহয় সন্দেহের প্রশ্নচিহ্ন ফুটে উঠেছিল তাই প্রশ্ন করলো “কার সাথে?” “আমার পরিচিত, রোজগারপাতি আছে বাড়ি আছে মেয়েকে সুখেই রাখবে। নামেও দারুণ মিল রতন আর রত্না। ব্যস আর তোমার কি ভাবার আছে? তাছাড়া আরও তো দুই মেয়ে আছে পার করতে” মায়ের আর কোন কথাই দাঁড়াতে জায়গা পায়নি। রত্না কিছু বলার অবকাশও পেলো না। লোকে বিয়েতে আত্মীয়স্বজনকে খবর দেয় হৈচৈ হয় কিন্তু ওর বেলায় সে সব কিছুই হল না। তাড়াহুড়ো করে কালীবাড়িতে বিয়ে দিয়ে পাড়ার লোকদের খাওয়ানো হল।...